Oppo Find X10 Pro Max ক্যামেরা রিভিউ: ৩টি ২০০MP ক্যামেরা কেমন?

  

ভূমিকা:

কেন এই ক্যামেরা নিয়ে এত কথা?

গত কয়েক বছর ধরে স্মার্টফোনের ক্যামেরা নিয়ে গল্পটা মোটামুটি একই: সেন্সর বড় হচ্ছে, মেগাপিক্সেল বাড়ছে। কিন্তু এবার ওপ্পো একটু আলাদা কাজ করেছে। Oppo Find X10 Pro Max-ই প্রথম ফোন, যার পেছনের তিনটি ক্যামেরাতেই ২০০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর বসানো। সাধারণত ফ্ল্যাগশিপ ফোনে প্রধান ক্যামেরা ভালো হয়, কিন্তু আলট্রাওয়াইড আর টেলিফটো থাকে একটু দুর্বল। ওপ্পো সেই ঘাটতিটাই পূরণ করতে চেয়েছে।


Oppo Find X10 Pro Max ক্যামেরা রিভিউ: ৩টি ২০০MP ক্যামেরা কেমন?


ফোনটি চীনে উন্মোচিত হয় ২২ সেপ্টেম্বর, আর বৈশ্বিক ঘোষণা আসে অক্টোবরের শেষ দিকে। ক্যামেরা-সিস্টেমটি Hasselblad-এর সাথে যৌথভাবে টিউন করা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কাগজের স্পেক বাস্তবে কতটা কাজে লাগছে? "২০০MP" লেখা দেখে কি সত্যিই প্রতিটি ছবি ২০০ মেগাপিক্সেলের হয়? রাতে ছবি কেমন আসে? ভিডিও কেমন? আর বাংলাদেশের ক্রেতা হিসেবে আপনার কী জানা দরকার?

এই লেখায় আমি GSMArena, T3, DPReview, Android Authority, Smartprix-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিভিউ ও ওপ্পোর নিজস্ব তথ্য মিলিয়ে সহজ বাংলায় সবকিছু গুছিয়ে বলছি। তথ্য ২৬ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ।

এক নজরে ক্যামেরা স্পেসিফিকেশনসমূহ

আগে সংখ্যাগুলো দেখে নিই। মনে রাখবেন, তিনটি ক্যামেরাই ২০০MP হলেও সেন্সর এক নয়।

ক্যামেরা

রেজল্যুশন

সেন্সর

অ্যাপারচার

ফোকাল লেংথ

বিশেষত্ব

প্রধান

২০০MP

1/1.3 ইঞ্চি, Samsung ISOCELL HPC

f/1.5

24mm

OIS, ১৭ স্টপ ডাইনামিক রেঞ্জ

আলট্রাওয়াইড

২০০MP

1/1.56 ইঞ্চি, ISOCELL HP5

f/2.2

13mm

১২৪° ভিউ, অটোফোকাস, ৪ সেমি ক্লোজ ফোকাস

টেলিফটো

২০০MP

1/1.56 ইঞ্চি, ISOCELL HP5

f/2.1

70mm (৩x)

OIS, ১০ সেমি ম্যাক্রো

সেলফি

৫০MP

1/2.76 ইঞ্চি

f/2.0

18mm

অটোফোকাস, 4K ভিডিও


ভিডিওতে ৪K ৩০fps এবং ৪K ১২০fps পর্যন্ত সুবিধা আছে, সাথে 10-bit, Dolby Vision ও LOG। এসব নিয়ে একটু পরেই বিস্তারিত বলছি।

২০০MP ছবি আসলে কখন পাবেন?

এটাই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝা বিষয়। ক্যামেরা অ্যাপ খুললেই আপনি ২০০ মেগাপিক্সেলের ছবি তুলছেন, ব্যাপারটা তা নয়।

পর্যাপ্ত আলো থাকলে ফোনটি ডিফল্টভাবে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ মেগাপিক্সেলের ছবি দেয়। এটা চলে আলট্রাওয়াইড থেকে ৯.৯x জুম পর্যন্ত। অর্থাৎ ২০০ মেগাপিক্সেলের সেন্সরের তথ্য একসাথে মিলিয়ে একটি ছোট কিন্তু পরিষ্কার ছবি বানানো হয়। কম আলোতে ছবি সাধারণত ১২ মেগাপিক্সেলে নেমে আসে। ১০x বা তার বেশি জুমেও ১২MP-র মতো আউটপুট পাওয়া যায়।

পূর্ণ ২০০ মেগাপিক্সেল পেতে হলে আপনাকে তিনটি ক্যামেরার নিজস্ব ফোকাল লেংথে (0.6x, 1x, 3x) শুট করতে হবে। এখানে ওপ্পো মাল্টি-ফ্রেম ফিউশন ব্যবহার করে। এ ছাড়া Hasselblad Hi-Res মোডে সমর্থিত ক্যামেরায় ৫০ বা ২০০MP বেছে নেওয়া যায়।

তাহলে ২০০MP কি অকারণ? মোটেই না। ডিফল্ট ছবিতে বাড়তি পিক্সেলগুলো ডিটেল বাড়ায় আর নয়েজ কমায়। আর আপনি বড় প্রিন্ট বা পরে ক্রপ করার জন্য ছবি তুললে পূর্ণ ২০০MP কাজে আসবে। তবে ফাইল অনেক বড় হবে, তাই সব সময় এই মোডে শুট না করাই ভালো।



Oppo Find X10 Pro Max ক্যামেরা রিভিউ: ৩টি ২০০MP ক্যামেরা কেমন?



প্রধান, আলট্রাওয়াইড ও টেলিফটো: তিন লেন্স আলাদা করে দেখি

প্রধান ক্যামেরা। এবার প্রধান ক্যামেরায় নতুন Samsung ISOCELL HPC সেন্সর এসেছে। আগের Find সিরিজে এই জায়গায় Sony-র সেন্সর ছিল। ওপ্পো দাবি করছে এর DeepPix প্রযুক্তি একটি ফ্রেমেই ১৭ স্টপ ডাইনামিক রেঞ্জ ধরতে পারে। রিভিউয়ারদের অভিজ্ঞতা মোটামুটি মিলে যায়: উজ্জ্বল ব্যাকগ্রাউন্ডেও ছায়ার অংশে টেক্সচার থাকে, রং স্বাভাবিক থাকে, আর জুম করলেও ডিটেল গলে গিয়ে "পেইন্টিংয়ের মতো" হয়ে যায় না।

আলট্রাওয়াইড। এটাই এই ফোনের সবচেয়ে বড় চমক। সাধারণত ফ্ল্যাগশিপে আলট্রাওয়াইড মানেই কম রেজল্যুশন আর ঝাপসা কোণ। এখানে ১২৪° ভিউয়ের এই লেন্স অটোফোকাস সহ, আর মাত্র ৪ সেমি দূরত্ব থেকেও ফোকাস করতে পারে। Smartprix-এর রিভিউয়ার লিখেছেন, প্রথমবার একটি Pro Max-এর আলট্রাওয়াইড ব্যবহার করে তাঁর মনে হয়নি যে তিনি কোনো আপস করছেন। GSMArena-ও দিনরাত দুই সময়েই এর পারফরম্যান্সকে প্রতিযোগীদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।

টেলিফটো। ৭০mm, ৩x অপটিক্যাল জুম, f/2.1। ২০০MP সেন্সরের মাঝখান থেকে ক্রপ করে ৬x (১৪০mm) জুমও প্রায় লসলেস পাওয়া যায়, আর অ্যাপে ৬x-ই একটি ডিফল্ট অপশন। সর্বোচ্চ জুম ১২০x পর্যন্ত যায়। তবে এখানে ভারসাম্যের জন্য একটা কথা বলা দরকার: আগের Find X9 Ultra-র মতো ১০x অপটিক্যাল জুম এই ফোনে নেই। চাইলে ওপ্পোর আলাদা Hasselblad টেলিকনভার্টার কিট (৩.২৮x) লাগিয়ে ১০x রেঞ্জ পাওয়া যায়, কিন্তু সেটা বাড়তি খরচ ও বাড়তি জিনিস বহনের ব্যাপার।

ম্যাক্রো। আলাদা ম্যাক্রো লেন্স নেই, তবে টেলিফটো লেন্সই ১০ সেমি দূরত্ব থেকে ফোকাস করে ম্যাক্রোর কাজ চালায়। এতে ৩x-এ ফুল, পোকা, খাবারের ডিটেল ছবি তোলা সুবিধার, কারণ ফোন সাবজেক্ট থেকে একটু দূরে রেখেও কাছের ছবি পাওয়া যায়। কম আলোতেও ফলাফল ভালো, এমনটাই একাধিক রিভিউয়ারের মত।

ভিডিও ও সেলফি: ক্রিয়েটরদের জন্য আসল আকর্ষণ

স্টিল ছবির চেয়ে ভিডিওতেই এই ফোন হয়তো বেশি এগিয়ে। কারণ তিনটি ক্যামেরাই ২০০MP হওয়ায় 8K ৩০fps আর 4K ১২০fps তিনটি লেন্সেই পাওয়া যায়। সাধারণ Find X10-এ কিন্তু এই সুবিধা শুধু প্রধান ও টেলিফটো ক্যামেরায় আছে। ফলে লেন্স বদলালেও ভিডিওর মান আর রং প্রায় একই থাকে।

আরও কিছু বিষয় যা সাধারণ স্পেক-লিস্টে চোখে পড়ে না:

ওপেন-গেট রেকর্ডিং: এই প্রথম ওপ্পো এটি দিয়েছে। ৪০৯৬×৩০৭২ রেজল্যুশনে ৬০fps পর্যন্ত, ফলে পরে এডিটে ক্রপ করে ভার্টিক্যাল বা ল্যান্ডস্কেপ দুই ফরম্যাটেই ব্যবহার করা যায়।
LOG ও 10-bit: কালার গ্রেডিংয়ের জন্য বেশি তথ্য সংরক্ষণ হয়। সাথে Dolby Vision আছে।
LUT প্রিভিউ: রেকর্ডিংয়ের সময় পছন্দের লুক স্ক্রিনে দেখা যায়, আর পরে রেকর্ড করা ফুটেজেও LUT বসানো যায়।
রাতের ভিডিও: GSMArena একে শ্রেণিতে সেরা বলেছে। Smartprix-এর পরীক্ষায় আলট্রাওয়াইডের কম আলোর ভিডিওতে iPhone 18 Pro-র চেয়ে নয়েজ কম ছিল।
সেলফি ক্যামেরা। ৫০MP, অটোফোকাস, আর ফোকাল লেংথ এবার ১৮mm, অর্থাৎ আগের চেয়ে প্রশস্ত ফ্রেম। গ্রুপ সেলফি বা ভ্লগ করার সময় হাত অনেকটা কম লম্বা করতে হবে। ফ্রন্ট ক্যামেরায় 4K ৬০fps পর্যন্ত ভিডিও করা যায়, আর কম আলোর ছবিও আগের চেয়ে ভালো, এমন মন্তব্য পাওয়া গেছে।

বাস্তবে কেমন: দিন, রাত আর দুর্বলতা

স্পেক ভালো হলেও আসল প্রশ্ন, প্রতিদিনের ব্যবহারে ছবি কেমন আসে। রিভিউয়াররা যা পেয়েছেন, তার সারকথা এই:

দিনের আলোয় ছবি পরিষ্কার, রং মোটামুটি স্বাভাবিক, আর হাইলাইট-শ্যাডো সামলানো ভালো। T3-এর রিভিউয়ার ছুটিতে আলাদা ক্যামেরা না নিয়েই কেবল এই ফোন দিয়ে ছবি তুলেছেন এবং খাবার ও ল্যান্ডস্কেপে ডিটেলে সন্তুষ্ট ছিলেন।

রাতে তিনটি বড় সেন্সরের কারণে নয়েজ কম থাকে এবং ডিটেল ধরে রাখা যায়। Engadget-এর হাতে-কলমে পরীক্ষায় Find X9 Pro-র তুলনায় কম আলোয় অটোফোকাস ভালো আর ডিটেল বেশি পাওয়া গেছে।

দুর্বলতা একেবারে নেই, তা নয়। T3 জানাচ্ছে মাঝেমধ্যে ফোকাস ফসকে যায়, আর কম আলোয় নড়াচড়া করা বিষয়ের ছবি ঝাপসা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাদের মতে মুখ শনাক্ত করে একাধিক ফ্রেম মিলিয়ে ব্লার কমানোর কাজে Google Pixel 11 Pro এখনো একটু এগিয়ে। Engadget আবার মনে করিয়ে দিয়েছে, প্রধান ক্যামেরার সেন্সরের আকারে ও টেলিফটো জুমের পাল্লায় Find X9 Ultra বড়। অর্থাৎ ভালো ক্যামেরা, তবে "সবকিছুতেই সেরা" নয়।

একটা কথা পরিষ্কার করে রাখি: আমি নিজে ফোনটি হাতে নিয়ে পরীক্ষা করিনি। এই অংশ পুরোটাই নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক রিভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে লেখা।

Find X9 Pro ও সাধারণ Find X10-এর সাথে তুলনা

আপনি যদি দ্বিধায় থাকেন Pro Max নেবেন, নাকি সস্তা Find X10 বা গত বছরের Find X9 Pro-তেই থাকবেন, তাহলে নিচের টেবিলটা কাজে আসবে।

বিষয়

Find X9 Pro

Find X10

Find X10 Pro Max

প্রধান ক্যামেরা

৫০MP (Sony, 1/1.28 ইঞ্চি)

২০০MP

২০০MP (1/1.3 ইঞ্চি)

আলট্রাওয়াইড

৫০MP

৫০MP

২০০MP

টেলিফটো

২০০MP

২০০MP, ২.৮x

২০০MP, ৩x

সেলফি

৫০MP

৫০MP

৫০MP

চিপসেট

Dimensity 9500

Dimensity 9600M (৩ ন্যানোমিটার)

Dimensity 9600 Pro (২ ন্যানোমিটার)

ডিসপ্লে

৬.৭৮ ইঞ্চি

৬.৫৯ ইঞ্চি

৬.৭৮ ইঞ্চি


সংক্ষেপে: X9 Pro-তে একটি মাত্র ক্যামেরা ২০০MP ছিল, আর X10 Pro Max-এ তিনটিই। বাইরে থেকে দুটি ফোন প্রায় একই আকারের, শুধু ক্যামেরার অংশটা বড় হয়েছে। X9 Pro ভালো চললে শুধু ক্যামেরার জন্য আপগ্রেড করা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু আলট্রাওয়াইড বা ভিডিওকে আপনি গুরুত্ব দিলে পার্থক্যটা চোখে পড়বে।

সাধারণ Find X10 তুলনামূলক কম দামে প্রায় একই প্রধান ও টেলিফটো ক্যামেরা দেয়। তাই আপনি আলট্রাওয়াইড বেশি ব্যবহার না করলে এটিও যুক্তিসংগত পছন্দ।

প্রতিযোগীরা। Pro Max-এর সবচেয়ে কাছের লড়াইটা Xiaomi 18 Pro Max আর vivo X500 Pro Max-এর সাথে বলে ধরা হচ্ছে। Memeburn-এর তুলনায় vivo-র মডেলে একই চিপসেট আছে, কিন্তু ক্যামেরায় ৫০MP প্রধান ক্যামেরার সাথে ২০০MP Zeiss টেলিফটো। অর্থাৎ ওপ্পো তিনটি লেন্সে সমান মান দিতে চাইছে, আর vivo একটি বিশেষ লেন্সে জোর দিয়েছে। আপনার পছন্দ ধারাবাহিকতা না জুমের ওপর, সেটাই ঠিক করে দেবে কোনটা ভালো।

দাম কত, আর বাংলাদেশে কি পাওয়া যাবে?

ফোনটির দাম বাজারভেদে অনেক আলাদা। এখন পর্যন্ত যে দামগুলো পাওয়া গেছে:

বাজার

শুরুর দাম

নোট

চীন

$১,০১৫ (¥৬,৭৯৯)

Memeburn

ইউরোপ

১,৭৯৯ ইউরো

binodon69-এ PhoneArena-এর সূত্রে

ভারত

₹১,৯৯,৯৯৯

12GB/512GB, 24updatenews

ফিলিপাইন

₱১,২৯,৯৯৯

16GB/512GB, unbox.ph


বাংলাদেশে এখনো আনুষ্ঠানিক বিক্রি বা দামের ঘোষণা দেখিনি। কিছু মোবাইল-ডাটা সাইটে দাম দেখানো আছে, যেমন AssuredZone-এ ৳১,২৪,৫৪৫ আর GSMArena Bangladesh-এ গুজব হিসেবে ৳১,৭০,০০০। দুটির মধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার টাকার ফারাক, আর এসবের কোনোটিই সরকারি দাম নয়। চীন আর ইউরোপের দামের মধ্যেও বিরাট ফারাক আছে। তাই বাংলাদেশের চূড়ান্ত দাম নির্ভর করবে আমদানির ধরন, শুল্ক-কর আর বিক্রেতার ওপর।

কেনার আগে যা মিলিয়ে নেবেন:

  • কোন সংস্করণ: ব্যাটারি ৮,০০০ mAh না ৭,১৫০ mAh, তা দেখে নিন। T3-এর ইউকে রিভিউ ইউনিটে ছিল ৭,১৫০ mAh সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি।

  • নেটওয়ার্ক: ফোনটি 5G সমর্থন করে আর Nano SIM ও eSIM দুটিই আছে বলে জানানো হয়েছে। তবে বাংলাদেশের ব্যান্ডের সাথে নির্দিষ্ট সংস্করণ মেলে কি না, বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করুন।

  • ওয়ারেন্টি: অনানুষ্ঠানিক আমদানির ফোনে স্থানীয় সার্ভিস সেন্টারের সুবিধা না-ও মিলতে পারে।

  • রেজিস্ট্রেশন: আমদানি করা ফোনের ক্ষেত্রে বিটিআরসির ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম আগে যাচাই করে নিন।

  • রং: Titanium Grey, Luna White ও Orange।

কাদের জন্য এই ফোন, আর কাদের জন্য নয়?

কিনতে পারেন যদি:

  • আপনি ভ্রমণ, ফ্যামিলি ফটো বা কনটেন্ট তৈরিতে ক্যামেরাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন

  • আলট্রাওয়াইড আর টেলিফটো দুটোই নিয়মিত ব্যবহার করেন এবং তিন লেন্সে একই মান চান

  • 8K বা 4K ১২০fps ভিডিও, LOG ও ওপেন-গেটে শুট করে নিজে এডিট করেন

  • বড় ব্যাটারি আর দ্রুত চার্জিং (৮০W তারযুক্ত, ৫০W ওয়্যারলেস) দরকার

আরেকবার ভাবুন যদি:

  • বাজেট সীমিত। এই দামে আপনি তুলনামূলক কম খরচে সাধারণ Find X10 পেতে পারেন

  • আপনার কাছে ইতিমধ্যে Find X9 Pro আছে এবং সেটি ভালো চলছে

  • আপনি ১০x-এর বেশি অপটিক্যাল জুম চান, সেক্ষেত্রে এই ফোনে অতিরিক্ত কিট লাগবে

  • বাংলাদেশে অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি আপনার কাছে অগ্রাধিকার, কারণ এখনো তা নিশ্চিত নয়

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. Oppo Find X10 Pro Max-এ কয়টি ক্যামেরা আছে?

পেছনে তিনটি ২০০MP ক্যামেরা: প্রধান, আলট্রাওয়াইড ও ৩x টেলিফটো। সামনে একটি ৫০MP সেলফি ক্যামেরা।

২. ফোনটি কি সবসময় ২০০MP ছবি তোলে?

না। ডিফল্টভাবে পর্যাপ্ত আলোয় প্রায় ২৫-২৬MP-র ছবি আসে, কম আলোয় ১২MP। পূর্ণ ২০০MP পেতে ক্যামেরার নিজস্ব ফোকাল লেংথে শুট করতে হয় বা Hasselblad Hi-Res মোড বেছে নিতে হয়।

৩. Find X10 Pro Max-এর জুম কতটা?

অপটিক্যাল জুম ৩x, ক্রপ করে ৬x পর্যন্ত প্রায় লসলেস, আর সর্বোচ্চ ১২০x। ১০x অপটিক্যাল চাইলে আলাদা Hasselblad টেলিকনভার্টার কিট লাগবে।

৪. ভিডিওতে কী কী সুবিধা আছে?

8K ৩০fps, 4K ১২০fps, 10-bit, Dolby Vision, LOG, LUT প্রিভিউ আর ওপেন-গেট রেকর্ডিং। প্রথম দুটি তিনটি লেন্সেই পাওয়া যায়।

৫. কম আলোয় কেমন ছবি আসে?

রিভিউগুলোতে নয়েজ কম ও ডিটেল ভালো বলা হয়েছে, বিশেষ করে রাতের ভিডিও আর আলট্রাওয়াইডে। তবে নড়াচড়া করা বিষয়ের ছবিতে ব্লার আর মাঝেমধ্যে ফোকাস মিস হওয়ার অভিযোগ আছে।

৬. Find X10 ও Find X10 Pro Max-এর ক্যামেরার পার্থক্য কী?

Pro Max-এর আলট্রাওয়াইড ২০০MP, সাধারণ Find X10-এ ৫০MP। জুমও Pro Max-এ ৩x, X10-এ ২.৮x।

৭. বাংলাদেশে Find X10 Pro Max-এর দাম কত?

এখনো অফিশিয়াল দাম ঘোষণা হয়নি। বিভিন্ন সাইটে ৳১,২৪,৫৪৫ থেকে ৳১,৭০,০০০ পর্যন্ত অনুমানভিত্তিক দাম দেখা যাচ্ছে, তাই কেনার আগে স্থানীয় বিক্রেতার সাথে নিশ্চিত হয়ে নিন।

৮. ফোনটির ব্যাটারি কত?

কিছু বাজারে ৮,০০০ mAh, আবার ইউকে-ইউরোপ সংস্করণে ৭,১৫০ mAh। চার্জিং ৮০W তারযুক্ত ও ৫০W ওয়্যারলেস।

শেষ কথা

Oppo Find X10 Pro Max-এর ক্যামেরার আসল শক্তি মেগাপিক্সেলের সংখ্যায় নয়, তিনটি লেন্সের মানের ধারাবাহিকতায়। বিশেষ করে ২০০MP আলট্রাওয়াইড, তিন লেন্সে 8K ও 4K ১২০fps ভিডিও, আর কম আলোয় ভালো ডিটেল একে বর্তমান ফ্ল্যাগশিপের মধ্যে আলাদা করেছে। আবার ১০x অপটিক্যাল জুম নেই, মাঝেমধ্যে ফোকাস মিস হয়, আর দামও অনেক বেশি। তাই যাঁরা ক্যামেরা ও ভিডিওকে প্রথম অগ্রাধিকার দেন, তাঁদের জন্য এটি দারুণ পছন্দ। বাকিদের জন্য সাধারণ Find X10 বা পুরোনো Find X9 Pro-ও যথেষ্ট হতে পারে।

বাংলাদেশে অফিশিয়াল লঞ্চের খবর এলে এই লেখায় দাম ও প্রাপ্যতা হালনাগাদ করা হবে।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন
1 জন কমেন্ট করেছেন ইতোমধ্যে
  • Our Online Shop
    Our Online Shop ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:৩৫ AM

    Vabchi akta eii phone kinbo

মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক টুল আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url